দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের হেনরি বি. কাগান ও জাপানের কেনসো সোয়াই। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে স্ব-অনুঘটন বা অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।
হেনরি কাগান ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদের সঙ্গে যুক্ত। আর কেনসো সোয়াই জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সে কাজ করেন।
কিছু অণু দেখতে পরস্পরের আয়না-ছবির মতো। একই অণুর এমন দুটি রূপকে রাসায়নিকভাবে পরস্পরের আয়না-রূপ বলা হয়। মানবদেহে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্ষেত্রেও এমন দুটি রূপ রয়েছে। তবে কোষের প্রোটিনে মূলত এই দুই রূপের একটিই পাওয়া যায়। অন্য রূপটি প্রকৃতিতে অত্যন্ত বিরল।
জীবজগতে কীভাবে অণুর এমন একমুখী গঠন তৈরি হলো, তা দীর্ঘদিন ধরে রসায়নবিদদের কাছে একটি বড় প্রশ্ন ছিল। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এমন অণু তৈরি করতে গেলে দুটি আয়না-রূপই প্রায় সমান পরিমাণে তৈরি হতো।
বিশেষ করে ওষুধ তৈরিতে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো অণুর একটি নির্দিষ্ট আয়না-রূপ কাঙ্ক্ষিত প্রভাব তৈরি করতে পারে, অন্য রূপটি একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। তাই শুধু কাঙ্ক্ষিত আয়না-রূপ তৈরি করতে পারে—এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া উদ্ভাবন ছিল রসায়নবিদদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য।
এই ক্ষেত্রে প্রথম বড় অগ্রগতি আসে হেনরি কাগানের গবেষণায়। ১৯৮৬ সালে তিনি রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এর মাধ্যমে আগের তুলনায় একটি আয়না-রূপ অনেক বেশি পরিমাণে তৈরি করা সম্ভব হয়। অসমমিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
এরপর কেনসো সোয়াইয়ের গবেষণায় আসে আরও বড় সাফল্য। ১৯৯৫ সালে তিনি এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে একই ধরনের আয়না-রূপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পরে ২০০৩ সালে তিনি এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া দেখান, যেখানে সম্ভাব্য দুটি আয়না-রূপের মধ্যে শুধু একটিই তৈরি হয়।
নোবেল কমিটির মতে, জীবনের বাইরে কোনো রাসায়নিক ব্যবস্থায় এর আগে এমন ঘটনা দেখা যায়নি।
কাগান ও সোয়াইয়ের আবিষ্কারের ব্যবহার গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট গঠনের অণু তৈরি করা ওষুধ উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই রাসায়নিক উপাদানের দুটি আয়না-রূপ মানবদেহে ভিন্নভাবে কাজ করতে পারে। ফলে কাঙ্ক্ষিত আয়না-রূপ নির্ভুলভাবে তৈরির প্রযুক্তি ওষুধশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নোবেল কমিটির মতে, তাদের আবিষ্কার ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট গঠনের অণু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সূত্র: নোবেল প্রাইজ
যে আই